সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিরাইয়ে পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ৪০ হাওর বাঁচাতে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড় লোকবলের অভাবে চালু হচ্ছে না আইসিইউ, আড়াই বছর ধরে কক্ষ তালাবদ্ধ অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবছে জমির ধান চরম দুর্দশায় হাওরের কৃষক জামালগঞ্জে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা বজ্রপাতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে জামালগঞ্জ কী করছেন ‘মাস্টারমাইন্ড’ মাহফুজ আলম হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র এবং বজ্রনিরোধক দন্ড স্থাপনের দাবি এমপি কামরুল

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ২২-১১-২০২৫ ০৭:০৮:১৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-১১-২০২৫ ০৭:০৮:১৯ পূর্বাহ্ন
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত সাম্প্রতিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে- খাদ্যে ভেজাল, অসচেতনতা ও অনিয়ম এখনও উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান হৃদয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে বেশ কয়েকটি হোটেলকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পরিমাণ মাত্র ছয় হাজার টাকা হলেও এর বার্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযানে দেখা গেছে, শহরের বহু হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ভোক্তা সম্পূর্ণ না খাওয়া ‘উচ্ছিষ্ট’ ভাত পুনরায় সংরক্ষণ করে নতুন গ্রাহকদের কাছে পরিবেশন করা হচ্ছিল। খাদ্যের এই অপব্যবহার শুধু অনৈতিকই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বাসি খাবার থেকে সহজেই ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে, যা ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ নানাবিধ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একটি সভ্য সমাজে নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই বাস্তবতায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে প্রশ্ন হলো- এ ধরনের অভিযান কি যথেষ্ট? উত্তর স্পষ্ট- না। কারণ জরিমানার ভয়ে একদিন বন্ধ থাকা অনিয়ম পরদিনই ফিরে আসতে পারে। তাই এই অভিযানকে নিয়মিত করতে হবে এবং নজরদারির আওতা বাড়াতে হবে। শুধু জরিমানাই নয়, প্রয়োজন মালিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ। এখানে ভোক্তাদের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি সচেতন হন, অভিযোগ করেন এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে কথা বলেন, তবে ব্যবসায়ীরা কৌশলে অনিয়ম করার সাহস পাবেন না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের কার্যকর প্রয়োগ, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং জনগণের অংশগ্রহণ - এই তিনের সমন্বয়েই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে- এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং আশা করি অন্যান্য উপজেলাতেও একইভাবে কঠোর তদারকি জোরদার করা হবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে খাদ্য পরিবেশনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের এখনই সময়। খাদ্য নিরাপত্তা কোনো দয়া নয়, এটি জনগণের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর পদক্ষেপ চলমান থাকুক - এই প্রত্যাশাই রইল।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স